বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
যেখানে নিপীড়ন শুরু, সেখানেই প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে!
অনলাইন ডেস্ক
সমাবেশ শেষে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভ মিছিলে। প্রকম্পিত স্লোগানে মুখরিত হয় চারদিক—‘আমি কে তুমি কে বাংলাদেশি বাংলাদেশি’, ‘ধর্মের নামে হানাহানি, বন্ধ করো বন্ধ করো’, ‘প্রটেক্ট মাইনোরিটি, প্রটেক্ট ডেমোক্রেসি’।
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সৌহার্দ্য দেব বলেন, ‘‘বাংলাদেশ কারও একার নয়। এখানে সবাই সমানভাবে বাস করার অধিকার রাখে। অথচ বারবার সংখ্যালঘুদের নিশানা বানিয়ে যেভাবে হামলা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান—এই ন্যক্কারজনক হামলাগুলো বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিন।’’
জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক পরিকল্পিত হামলা প্রমাণ করে, সরকার সচেতনভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি—যারা এসব হামলার পেছনে আছে, উসকানি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিন।’’
ছাত্রদলের শাখা সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘‘বহু শতাব্দী ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে এসেছে। আজ সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে কুৎসিত প্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা অন্তর্বর্তী ও ভবিষ্যতের সরকারকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি—এ ধরনের অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।’’
ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘‘আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ধর্মীয় স্বাধীনতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা ভুলে গেলে চলবে না। গত ১৭ বছর ধরে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চলছে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত। এসব হামলার পেছনের শক্তিগুলোর বিচার চাই আমরা।’’
উল্লেখ্য, প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন বলে জানিয়েছে।